নাগোয়ার নিশিন করোগি স্পোর্টস পার্কে এশিয়ান গেমস ক্রিকেটের সেমিফাইনালে পাকিস্তানের কাছে ৬ উইকেটে হেরেছে বাংলাদেশ। তাওহীদ হৃদয়ের ব্যাটিং বাদ দিলে ব্যাট-বল দুই বিভাগেই বাংলাদেশ বাজে পারফর্ম করেছে। পদক জয়ের এই প্রতিযোগিতায় আগের না ম্যাচ না খেলেই সেমিফাইনালে উঠেছিল লিটন দাসের দল। এরপর একমাত্র ম্যাচেও যাচ্ছেতাই ফল। এমন হারে দল নির্বাচন নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে!

প্রথমে ব্যাট করে বাংলাদেশ ১৩ ওভারে ১১২ রানের লক্ষ্য দেয় পাকিস্তানকে। মুস্তাফিজুর রহমানের বাজে বোলিংয়ে সহজেই জিতেছে পাকিস্তান। ২ ওভারে ৪১ রান দিয়েছেন এই পেসার। নির্ধারিত ওভারের ৯ বল এবং ৬ উইকেট হাতে থাকতেই তারা জয়ের বন্দরে পৌঁছে যায়।

এশিয়ান গেমসে সারপ্রাইজ প্যাকেজ হিসেবে দলে নেওয়া হয়েছিল আলিস আল ইসলামকে। তবে এমন স্পিনবান্ধব উইকেটেও যদি না খেলানো হয়, তাহলে তাকে দলে নেওয়ার প্রয়োজন কী– এমন প্রশ্ন আসা স্বাভাবিক। বিসিবির একজন কর্মকর্তার কাছে এ বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে তিনি বললেন, ‘আমি তো দলের সঙ্গে নেই, তবে তাকে কেন খেলায়নি বলতে পারছি না।’

বিসিবির আরেক নির্বাচক বললেন, ১৩০ রান হলে ভালো হতো। বাংলাদেশ দলের প্রধান কোচ মোহাম্মদ সালাউদ্দিনের হয়তো কোনো পরিকল্পনা ছিল আলিসকে বাইরে রেখে। ম্যাচ হেরে বিদায় নেওয়ায় সেটি কতটা কার্যকর হলো সেই প্রশ্ন ওঠাটা স্বাভাবিক। কথা হচ্ছে মোসাদ্দেক সৈকতকে একাদশে নিয়ে বোলিং না করানো নিয়েও। নির্বাচকরাই জানিয়েছিলেন, ইয়াসির রাব্বি পাওয়ার হিটার। কিন্তু টি-টোয়েন্টি ম্যাচেও পাওয়ার হিটার কেন একাদশের বাইরে!

ম্যাচ হারের পরও যেন বিকার নেই অধিনায়ক লিটন দাসের। কিছু প্রশ্নের উত্তর দিয়েছেন বাঁকা সুরে। প্রথম ওভারে ১৮ রান দেওয়ার পরও কেন আবারও মুস্তাফিজকে বল দেওয়া হলো– এমন প্রশ্নে লিটন বলেন, ‘আজকে মুস্তাফিজ ৩ উইকেট পেলে আপনি এই প্রশ্ন করতেন না। আমার কাছে বেস্ট অপশন মুস্তাফিজ মনে হয়েছে, আমি করিয়েছি। আপনার কাছে যদি কখনও মনে হয় অন্য অপশন বেস্ট, আপনি করাবেন।'

এশিয়ান গেমসে বাংলাদেশকে হারিয়ে ফাইনালে উঠল পাকিস্তান। যদিও বাংলাদেশের তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচ খেলে এখনও পদক জেতার সুযোগ রয়েছে। দ্বিতীয় সেমিফাইনালে লড়বে ভারত-শ্রীলঙ্কা। ওই ম্যাচে বিজয়ীরা ফাইনালে এবং পরাজিত দলের বিপক্ষে ৩ অক্টোবর সকালে ব্রোঞ্জ জয়ের লক্ষ্যে খেলবে লিটন দাসের দল।